মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্য

 

১। বালিয়াদীঘী:


বালিয়াদীঘি জলাশয়টি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর হতে প্রায় ৪২ কিমি দূরে সোনামসজিদ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। ধারণা করা হয় রাজা বল্লাল সেন (রাজত্বকাল ১১৫৮-১১৭৯ খ্রিঃ) দীঘিটি খনন করেন। ‘বল্লাল দীঘি’কালক্রমে ‘‘বালিয়াদীঘি’’ নামে পরিচিত হয়েছে। এছাড়া অনেকে মনে করেন বালুকাময় জলাশয় বলে এর নাম বালুয়াদীঘি। কোতোয়ালী গেট হতে দক্ষিণে এই প্রাচীন দীঘিটি অবস্থিত। খাস খতিয়ান ভুক্ত এ দীঘির আয়তন ৩৯.৪৮ একর। এক কালে রাজবাড়ী এবং দূর্গে এ দীঘি হতে পানি সরবরাহ করা হতো। দীঘির তলদেশ বালুকাময় থাকায় পানি অত্যন্ত স্বচ্ছ।

 

২। বাংলাদেশে পদ্মা নদীর প্রবেশ মুখ:

 

বর্তমানে প্রবাহিত পদ্মানদী ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে শিবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে দুর্লভপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর মৌজা দিয়ে শিবগঞ্জ তথা বাংলাদেশে প্রবেশ করে পাঁকা ও উজিরপুর হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে প্রবেশ করেছে। পদ্মা নদীর অপর একটি ধারা পৃথকভাবে দুর্লভপুর ইউনিয়নের হাসানপুর মৌজা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পাঁকা ইউনিয়ন ও উজিরপুর পর্যন্ত দুটি ধারা পাশাপাশি প্রবাহিত হয়ে উজিরপুর ইউনিয়নে এসে উভয় ধারা একত্রে মিলিত হয়ে সদর উপজেলায় প্রবেশ করেছে। এছাড়া মূল পদ্মা নদী ভারতের মালদহ জেলা থেকে এ উপজেলার পশ্চিম অংশে অবস্থিত মনাকষা ইউনিয়নের পারচৌকা মৌজা দিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রবেশ করে দুর্লভপুর, পাঁকা, উজিরপুর, ছত্রাজিতপুর ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রবেশ করেছে। বর্তমানে এটি মরা গঙ্গানদী নামে পরিচিত। এর প্রবাহ বর্তমানে তেমন পরিলক্ষিত হয়না। পদ্মা নদী প্রবাহের গতিপথ পরিবর্তনের ফলে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর, ঘোড়াপাখিয়া ও দুর্লভপুর ইউনিয়ন নদী ভাঙ্গন কবলিত। বর্তমান পাঁকা ও উজিরপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

 

৩। দারাসবাড়ী মসজিদ ও মাদ্রাসা:

 

ছোট সোনামসজিদ ও কোতোয়ালী দরজার মধ্যবর্তী স্থানে ওমরপুরের সন্নিকটে দারসবাড়ী অবস্থিত। পুরুষানুক্রমে স্থানীয় জনসাধারণ এই স্থানকে ‘দারসবাড়ী’ বলে থাকেন। বর্তমানে এই স্থান পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। দর্স অর্থ পাঠ। সম্ভবতঃ একসময় মসজিদ সংলগ্ন একটি মাদ্রাসা ছিল এখানে। ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের সময় মুনশী এলাহী বখশ কর্তৃক আবিস্কৃত একটি আরবী শিলালিপি অনুযায়ী (লিপি-দৈর্ঘ্য ১১ ফুট ৩ ইঞ্চি, প্রস্থ ২ফুট ১ ইঞ্চি) ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে (হিজরী ৮৮৪) সুলতান শামস উদ্দীন ইউসুফ শাহের রাজত্বকালে তাঁরই আদেশক্রমে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। ইট নির্মিত এই মসজিদের অভ্যন্তরের আয়তক্ষেত্র দুই অংশে বিভক্ত। এর আয়তন ৯৯ ফুট ৫ ইঞ্চি, ৩৪ ফুট ৯ ইঞ্চি। পূর্ব পার্শ্বে একটি বারান্দা, যা ১০ ফুট ৭ ইঞ্চি। বারান্দার খিলানে ৭টি প্রস্ত্তর স্তম্ভের উপরের ৬টি ক্ষুদ্রাকৃতি গম্বুজ এবং মধ্যবর্তীটি অপেক্ষাকৃত বড় ছিল। উপরে ৯টি গম্বুজের চিহ্নাবশেষ রয়েছে উত্তর-দক্ষিণে ৩টি করে জানালা ছিল। উত্তর পশ্চিম কোণে মহিলাদের নামাজের জন্য প্রস্তর স্তম্ভের উপরে একটি ছাদ ছিল। এর পরিচয় স্বরূপ এখনও একটি মেহরাব রয়েছে। এতদ্ব্যতীত পশ্চিম দেয়ালে পাশাপাশি ৩টি করে ৯টি কারুকার্য খচিত মেহরাব বর্তমান রয়েছে। এই মসজিদের চারপার্শ্বে দেয়াল ও কয়েকটি প্রস্তর স্তম্ভের মূলদেশ ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই । এ মসজিদটিও বাংলার প্রথম যুগের মুসলিম স্থাপত্যের কীর্তির একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। এখানে প্রাপ্ত তোগরা অক্ষরে উৎকীর্ণ ইউসুফি শাহী লিপিটি এখন কোলকাতা যাদুঘরে রক্ষিত আছে। জেনারেল ক্যানিংহাম তার নিজের ভাষাতে একে দারসবাড়ী বা কলেজ বলেছেন। এ ঐতিহাসিক কীর্তির মাত্র কয়েকগজ দূরে ভারতীয় সীমান্ত।

 

   দারসবাড়ী মসজিদের প্রস্তর লিপিঃ

১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে এ স্থানে একটি জঞ্জাল স্ত্তপের নিচে মুন্সী এলাহী বখশ ১১ফুট ৩ ইঞ্চি ও ২ ফুট ১ ইঞ্চ উচু একটি তোঘরা লিপি প্রাপ্ত হন। এটা এখন কলকাতা যাদুঘরে রক্ষিত আছে এর নম্বর-৩১৩৯। লিপিটির বিপুল দৈর্ঘের কারণে একে দু’ভাগ করতে হয়েছে। লিপির অর্থ হচ্ছে-‘‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন- নিশ্চয়ই সব মসজিদ আল্লাহর, সুতরাং আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না।’ নবীও বলেছেন, আল্লাহর জন্য যে একটি মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য বেহেস্তে অনুরূপ একটি প্রাসাদ তৈরী করবেন।

      এই জামে মসজিদ ন্যায় পরায়ণ ও মহান সুলতান, জনগণ ও জাতি সমূহের প্রভু, সুলতানের পুত্র সুলতান, তাঁর পুত্র সুলতানের পুত্র শামসুদ্দুনীয়া ওয়াদ্দীন

      আবুল মুজাফ্ফর ইউসুফ শাহ সুলতান, পিতা বরবক শাহ সুলতান, পিতা মাহমুদ শাহ সুলতান কর্তৃক নির্মিত। আল্লাহ তার শাসন ও সার্বভৌমত্ব চিরস্থায়ী

      করুন এবং তার উদারতা ও উপচিকীর্ষা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক।